Wednesday, October 28, 2026
সৌদি সংবাদ

সৌদি আরব হুথি মিলিশিয়ার বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে

সৌদি আরব হুথি মিলিশিয়ার বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে

রিয়াদ, ৫ অক্টোবর ২০২৬ — সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি মিলিশিয়ার বেসামরিক নাগরিক এবং দেশের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় অব্যাহত হামলার তীব্রতম নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা কেবল বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ নেই; মিলিশিয়াটি পৃথিবীর পবিত্রতম স্থান মক্কা ও মদিনা, রাজধানী রিয়াদ এবং আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান, নাজরান, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরকেও বারবার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিবৃতিতে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিবৃতি প্রকাশের সময় স্থানীয় সময় রাত ২৩:২৫ এবং গ্রিনিচ মান সময় ২০:২৫ ছিল।

মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে হুথি মিলিশিয়ার অভ্যুত্থানের পর থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনে একটি ব্যাপক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য নিরন্তর ও অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শান্তি প্রত্যাখ্যানের নীতি অনুসরণ করে মিলিশিয়াটি বরং সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রাখার পথ বেছে নিয়েছে। এই পথ বেছে নেওয়ার ফলে ইয়েমেন ও ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণ আরও মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগে নিপতিত হচ্ছে, যা বাহ্যিক এজেন্ডার স্বার্থে এবং সেই এজেন্ডা অনুসরণের লক্ষ্যেই ঘটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক উত্তেজনা বেছে নেওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে? বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই দুর্ভোগ বাহ্যিক এজেন্ডার স্বার্থে এবং সেই এজেন্ডা অনুসরণের লক্ষ্যেই ঘটছে। মিলিশিয়ার এই পথ বেছে নেওয়া ইয়েমেনের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের ওপর আরও মানবিক ও অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

সৌদি আরব পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তার ভূখণ্ড, সম্পদ, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষায় তার সহজাত অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও দেশটির রয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে?

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল, ইয়েমেন সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণের প্রতি সৌদি আরব তার পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সমর্থনের লক্ষ্য হলো অভ্যুত্থানের অবসান ঘটানো এবং রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুথি মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে পুনরুদ্ধার করা। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের এই লক্ষ্য অর্জনে ইয়েমেনের বৈধ সরকারের সক্ষমতা জোরদারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে?

মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আহ্বানে বলা হয়েছে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং হুথি মিলিশিয়ার মোকাবিলায় ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিতে হবে। এই সমর্থনের মাধ্যমে মিলিশিয়াটি ইয়েমেন, অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা বন্ধ করতে হবে। প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে স্থায়ী সদস্যরা কেন এখনও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখছে না?

বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে পৃথিবীর পবিত্রতম স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী রিয়াদ এবং আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান, নাজরান, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এই শহরগুলোর ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং বেসামরিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রশ্ন হলো, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো কেন আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয় না?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রণালী আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি সামুদ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

বিবৃতিতে ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, এরপর থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু মিলিশিয়াটি শান্তি প্রত্যাখ্যান করে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রেখেছে। এই তুলনামূলক চিত্রে রাজনৈতিক সমাধানের পথ ও সামরিক উত্তেজনার পথের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক সমাধানের নিরন্তর প্রচেষ্টার পরেও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কীভাবে নিশ্চিত হবে?

সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট: নিজের ভূখণ্ড, সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সহজাত অধিকার রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল, ইয়েমেন সরকার ও ইয়েমেনি জনগণের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এই দুই অবস্থানের সমন্বয় বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রশ্ন হলো, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা—এই দুটোকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকা কতটা স্পষ্ট?

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানের অংশে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালন, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আহ্বানের লক্ষ্য হলো মিলিশিয়াটি ইয়েমেন, অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে তা বন্ধ করা। প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন না হলে ইয়েমেন, অঞ্চল ও বিশ্বের নিরাপত্তা ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে বিবৃতির সময় উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় সময় রাত ২৩:২৫ এবং গ্রিনিচ মান সময় ২০:২৫। প্রতিবেদনে বিবৃতির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য, যেমন হামলার নির্দিষ্ট সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে হুথি মিলিশিয়ার হামলার তীব্র নিন্দা, পবিত্র স্থান ও শহরগুলোর নাম, সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর বিষয়, ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার অধিকার, ইয়েমেনের বৈধ সরকারের প্রতি সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান—এই বিষয়গুলোই প্রধানভাবে উঠে এসেছে।

সৌদি আরব কোন কোন স্থান ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে? সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি মিলিশিয়ার বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনা, রাজধানী রিয়াদ এবং আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান, নাজরান, তায়েফ ও ইয়ানবু শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এসপিএ এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে? বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে হুথি মিলিশিয়ার অভ্যুত্থানের পর থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিলিশিয়াটি শান্তি প্রত্যাখ্যান করে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে ইয়েমেন ও ইয়েমেনি জনগণ আরও মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগে পড়ছে, যা বাহ্যিক এজেন্ডার স্বার্থে ঘটছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অধিকার ও ইয়েমেন সরকারের প্রতি সমর্থন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিজের ভূখণ্ড, সম্পদ, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষার সহজাত অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও দেশটির রয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল, ইয়েমেন সরকার ও ইয়েমেনি জনগণের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যাতে অভ্যুত্থান শেষ করে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার করা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কী আহ্বান জানানো হয়েছে? সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আহ্বানে বলা হয়েছে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং হুথি মিলিশিয়ার মোকাবিলায় ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিতে হবে। এর লক্ষ্য হলো মিলিশিয়াটি ইয়েমেন, অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে তা বন্ধ করা। এসপিএ এই আহ্বানের কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে এসেছে? বিবৃতিতে হুথি মিলিশিয়ার লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বাব আল-মান্দাব আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই হামলার বিষয়টি বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে। প্রতিবেদনে জাহাজ হামলার নির্দিষ্ট সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।