সৌদি লোহিত সাগরের সমুদ্রতলের ভূ-প্রকৃতি নিয়ে উচ্চ-রেজোলিউশনের তথ্যভিত্তিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবদান রেখেছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ (এনসিডব্লিউ)। গবেষণাটি কেন্দ্রটির ২০২২ সালের জার্নি অব দ্য ডিকেড অভিযানের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারদের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিল।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, গবেষণাটি আন্তর্জাতিক জার্নাল Earth System Science Data-তে প্রকাশিত হয়েছে। এতে উপস্থাপিত তথ্যসেট লোহিত সাগরের বিস্তারিত সমুদ্রতল মানচিত্রের দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। এই তথ্য সামুদ্রিক আবাসস্থল অধ্যয়ন, সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে।
গবেষণায় এনসিডব্লিউ, কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কাউস্ট) এবং সমুদ্র অনুসন্ধান ও সামুদ্রিক গবেষণায় বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ওশানএক্সের গবেষকরা অবদান রেখেছেন।
গবেষণাটি সৌদি উপকূল বরাবর প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার জুড়ে পরিচালিত সামুদ্রিক জরিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জরিপকৃত গভীরতা উপকূলীয় অগভীর পানিতে প্রায় দুই মিটার থেকে গভীর অঞ্চলে ২,৪৬০ মিটারেরও বেশি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
এনসিডব্লিউর সিইও এবং গবেষণার সহ-লেখক ড. মোহাম্মদ কুরবান বলেন, প্রকাশনাটি অভিযানের বৈজ্ঞানিক ফলাফলগুলোর একটি এবং লোহিত সাগর সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে সামুদ্রিক অনুসন্ধানের মূল্য প্রদর্শন করে।
তিনি বলেন, “এই গবেষণা অভিযানের সময় সংগৃহীত মাঠ তথ্য একটি উন্মুক্ত, উচ্চ-রেজোলিউশনের বৈজ্ঞানিক সম্পদ হিসেবে উপলব্ধ করে। এটি লোহিত সাগরের সমুদ্রতল সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া প্রসারিত করে, সমুদ্রতলের ভূ-প্রকৃতি ও সামুদ্রিক আবাসস্থলের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতের গবেষণা, জরিপ ও সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনার ভিত্তি প্রদান করে।”
তিনি আরও বলেন, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করে দেওয়া লোহিত সাগর সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে সমর্থন করবে এবং সমুদ্রতল মানচিত্রায়ন, সামুদ্রিক আবাসস্থল ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় অবদান রাখবে।
গবেষণাটি মোট ৪৯,৪১৮.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্রতলের গভীরতার ডিজিটাল মডেল তৈরি করেছে। গবেষকরা ২,৮৬৩টি জরিপ লাইনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছেন।
লোহিত সাগরের সমুদ্রতল নিয়ে এত বিস্তারিত তথ্য আগে কেন এতটা অনুপস্থিত ছিল? সৌদি উপকূল বরাবর ৮৬০ কিলোমিটার জুড়ে চালানো এই জরিপ কীভাবে দীর্ঘদিনের সেই ঘাটতি পূরণ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে গবেষণা মহলে।
এনসিডব্লিউর ২০২২ সালের জার্নি অব দ্য ডিকেড অভিযান ছিল এই তথ্যের মূল উৎস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারদের সঙ্গে পরিচালিত সেই অভিযানের সময় সংগৃহীত মাঠ তথ্যই এখন প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি। অভিযানটি কীভাবে ভবিষ্যতের সামুদ্রিক গবেষণার পথ প্রশস্ত করছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো জরিপকৃত গভীরতার ব্যাপ্তি। উপকূলীয় অগভীর পানিতে প্রায় দুই মিটার থেকে শুরু করে গভীর অঞ্চলে ২,৪৬০ মিটারেরও বেশি গভীরতা পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিশাল ব্যাপ্তি কীভাবে লোহিত সাগরের বৈচিত্র্যময় সমুদ্রতল বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে?
গবেষণাটি ৪৯,৪১৮.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্রতলের গভীরতার ডিজিটাল মডেল তৈরি করেছে। গবেষকরা ২,৮৬৩টি জরিপ লাইনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে একটি উন্মুক্ত বৈজ্ঞানিক সম্পদ তৈরি করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।
ড. মোহাম্মদ কুরবান বলেন, এই গবেষণা সমুদ্রতলের ভূ-প্রকৃতি ও সামুদ্রিক আবাসস্থলের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাকে সমর্থন করে। সামুদ্রিক আবাসস্থল রক্ষায় এই তথ্য কী ভূমিকা রাখতে পারে? বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার জন্য এমন তথ্য কতটা অপরিহার্য?
গবেষণাটি সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনার জন্যও ভিত্তি প্রদান করে। লোহিত সাগরের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনা কীভাবে সহায়ক হবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
এনসিডব্লিউ, কাউস্ট ও ওশানএক্সের গবেষকদের এই যৌথ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার একটি উদাহরণ। সমুদ্রতল মানচিত্রায়ন ও সামুদ্রিক আবাসস্থল নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য কীভাবে অবদান রাখবে?
ড. কুরবান উল্লেখ করেন, তথ্য উন্মুক্ত করে দেওয়া গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের জন্য লোহিত সাগর সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে সমর্থন করবে। উন্মুক্ত তথ্য কীভাবে ভবিষ্যতের গবেষণা ও জরিপকে ত্বরান্বিত করতে পারে?
গবেষণাটি Earth System Science Data জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকাশনা লোহিত সাগরের সমুদ্রতল সম্পর্কে দীর্ঘদিনের তথ্যঘাটতি পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রে জরিপের সময়সূচি, ব্যয় বা ভবিষ্যতের অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। এছাড়া গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নাম বা ভূমিকা সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গবেষণাটি কোন অভিযানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি? গবেষণাটি এনসিডব্লিউর ২০২২ সালের জার্নি অব দ্য ডিকেড অভিযানের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। অভিযানটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারদের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিল। এসপিএ জানিয়েছে, এই অভিযানের মাঠ তথ্যই প্রকাশিত গবেষণার মূল ভিত্তি।
জরিপে কতটা এলাকা ও গভীরতা কভার করা হয়েছে? জরিপটি সৌদি উপকূল বরাবর প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার জুড়ে পরিচালিত হয়। জরিপকৃত গভীরতা উপকূলীয় অগভীর পানিতে প্রায় দুই মিটার থেকে গভীর অঞ্চলে ২,৪৬০ মিটারেরও বেশি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গবেষণাটি ৪৯,৪১৮.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার ডিজিটাল মডেল তৈরি করেছে।
গবেষণায় কোন প্রতিষ্ঠানগুলো অবদান রেখেছে? গবেষণায় এনসিডব্লিউ, কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কাউস্ট) এবং সমুদ্র অনুসন্ধান ও সামুদ্রিক গবেষণায় বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ওশানএক্সের গবেষকরা অবদান রেখেছেন। এসপিএ অনুযায়ী, এই যৌথ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার একটি উদাহরণ।
গবেষণাটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছে? গবেষণাটি Earth System Science Data জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে উপস্থাপিত তথ্যসেট লোহিত সাগরের বিস্তারিত সমুদ্রতল মানচিত্রের দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। এসপিএ জানিয়েছে, এই তথ্য সামুদ্রিক আবাসস্থল অধ্যয়ন, সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।
এনসিডব্লিউর সিইও কী বলেছেন? এনসিডব্লিউর সিইও ও গবেষণার সহ-লেখক ড. মোহাম্মদ কুরবান বলেন, প্রকাশনাটি অভিযানের বৈজ্ঞানিক ফলাফলের একটি এবং লোহিত সাগর সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে সামুদ্রিক অনুসন্ধানের মূল্য প্রদর্শন করে। তিনি বলেন, গবেষণাটি মাঠ তথ্য একটি উন্মুক্ত, উচ্চ-রেজোলিউশনের বৈজ্ঞানিক সম্পদ হিসেবে উপলব্ধ করে।
এই তথ্য কীভাবে কাজে লাগবে? গবেষণাটি সামুদ্রিক আবাসস্থল অধ্যয়ন, সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। ড. কুরবান বলেন, তথ্য উন্মুক্ত করা লোহিত সাগর সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে সমর্থন করবে এবং সমুদ্রতল মানচিত্রায়ন ও সামুদ্রিক আবাসস্থল নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় অবদান রাখবে।





