রিয়াদে গ্লোবাল সিএসআর ফোরামের দ্বিতীয় আসর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে, যেখানে ৩ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে কয়েকজন মন্ত্রী, নির্বাচিত প্রধান নির্বাহী, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রের সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা অংশ নেন।
মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের সমর্থন ও অনুসরণ সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার, উদ্ভাবন ও সংলাপ সমর্থন এবং সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রতি সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
আল-রাজহি উল্লেখ করেন, ফোরামটি ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে, যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে টেকসই সমাজ ও আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টা সহায়তা পায়।
ফোরামের কার্যক্রম সমাপ্তিতে মন্ত্রী অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সংলাপ ও যৌথ কাজ চালিয়ে যান, যাতে টেকসই চর্চার ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎ গড়া যায় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রভাব সর্বাধিক করা যায়।
দুই দিনের এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী এবং ১০০-র বেশি বক্তা ৪০টিরও বেশি বিশেষায়িত সেশন ও সংলাপে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সরকারি ও নির্বাহী নেতা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ফোরামের সূচিতে ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভ আলোচিত হয়: কৌশল ও সংহতি; জলবায়ু, প্রকৃতি ও ন্যায্য রূপান্তর; কর্মশক্তি, প্রতিভা ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক প্রভাব; দায়বদ্ধ উদ্ভাবন; ডিজিটাল রূপান্তর এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা।
এমন একটি সমাবেশে ৪০টিরও বেশি সেশন আর ১০০-র বেশি বক্তা থাকলে সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? রিয়াদের এই দুই দিনের আলোচনা কি শুধু নীতির ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকল, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের দিকেও এগোল?
সৌদি আরবের সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে এই ফোরামের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন যে ধারাবাহিকতা দেখায়, তা ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মন্ত্রীর ভাষায়, উদ্ভাবন ও সংলাপকে সমর্থন করা এবং এই ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দিকে অগ্রসর হওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
কিন্তু নেতৃত্বের পথে অগ্রসর হওয়ার অর্থ কী—সংখ্যায় অংশগ্রহণ বাড়ানো, নাকি প্রভাবের গভীরতা বাড়ানো? ৩ হাজারের বেশি মানুষ এক ছাদের নিচে এলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত পরিবর্তন কি মাপা যায়?
ফোরামে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলে এবং সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি করে। টেকসই সমাজ ও আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় এই সহযোগিতা সহায়ক।
অংশীদারিত্ব যদি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলে, তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কে দায়িত্ব নেবে—সরকার, বেসরকারি খাত, নাকি সুশীল সমাজ? ফোরামে তিন ধরনের প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনের আলোচনায় ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভ ছিল। এর মধ্যে জলবায়ু, প্রকৃতি ও ন্যায্য রূপান্তর এবং দায়বদ্ধ উদ্ভাবনের মতো বিষয়গুলো সামাজিক দায়বদ্ধতার ঐতিহ্যবাহী পরিসরের বাইরে গিয়ে পরিবেশ ও প্রযুক্তির প্রশ্নকে যুক্ত করে।
জলবায়ু ও ন্যায্য রূপান্তরের প্রশ্ন সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোচনায় এলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কতটা বদলাবে? আর দায়বদ্ধ উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করলে প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সুফল—দুটোই কি সমান গুরুত্ব পাবে?
কর্মশক্তি, প্রতিভা ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক প্রভাব স্তম্ভটি দেখায়, সামাজিক দায়বদ্ধতা শুধু দান বা সমাজসেবার বিষয় নয়; কর্মক্ষেত্রের নীতি ও প্রতিভা বিকাশও এর অংশ। ডিজিটাল রূপান্তর স্তম্ভটি যুক্ত করে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট।
ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থ কি বদলে যাচ্ছে? কর্মশক্তি ও প্রতিভা ব্যবস্থাপনাকে সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রাধিকার তালিকা কি বদলাবে?
ফোরামের সমাপ্তিতে মন্ত্রী অংশগ্রহণকারীদের সংলাপ ও যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, এই ধারাবাহিকতা টেকসই চর্চার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়তে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রভাব সর্বাধিক করতে সহায়ক।
সংলাপ শেষ হলে যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান কতটা কার্যকর হয়? দুই দিনের আলোচনার পর অংশগ্রহণকারীরা ফিরে গেলে সেই অঙ্গীকার কি টিকে থাকবে?
ফোরামে সরকারি ও নির্বাহী নেতা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্র হয়েছিলেন। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ উপস্থিতি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ দেয়।
বিনিয়োগকারী ও শিক্ষাবিদ একই টেবিলে বসলে সামাজিক দায়বদ্ধতার সংজ্ঞা কি বদলায়? বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হবে?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে ফোরামের সূচিতে ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে, তবে প্রতিটি স্তম্ভে ঠিক কী সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত এসেছে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা দেশগুলোর তালিকাও দেওয়া হয়নি।
ফোরামের পরবর্তী আসর কবে হবে, কোথায় হবে বা কী ধরনের ফলোআপ ব্যবস্থা থাকবে—এসপিএ-র প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। অংশীদারিত্বের 구체적인 রূপ বা চুক্তির বিবরণও প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।
যেখানে ৪০টিরও বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হলো, সেখানে সেই সেশনগুলোর ফলাফল কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে? সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রভাব সর্বাধিক করার লক্ষ্য থাকলে পরিমাপযোগ্য সূচক ছাড়া অগ্রগতি বোঝা যাবে কীভাবে?
রিয়াদের এই ফোরাম শেষ হলো এক আহ্বান নিয়ে—সংলাপ ও যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়া। সেই আহ্বান কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা নির্ভর করবে অংশগ্রহণকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।
গ্লোবাল সিএসআর ফোরাম কোথায় ও কখন শেষ হলো? ফোরামের দ্বিতীয় আসর রিয়াদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয়। এসপিএ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে কয়েকজন মন্ত্রী এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রের নির্বাচিত প্রধান নির্বাহী, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা অংশ নেন। দুই দিনের এই আয়োজনে ৩ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
ফোরামে কতজন অংশ নেন এবং কতটি সেশন হয়? দুই দিনের ফোরামে ৩ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০০-র বেশি বক্তা অংশ নেন। তাঁরা ৪০টিরও বেশি বিশেষায়িত সেশন ও সংলাপে যোগ দেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সরকারি ও নির্বাহী নেতা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এসপিএ এই তথ্য দিয়েছে।
ফোরামের ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভ কী কী? ফোরামের সূচিতে ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভ আলোচিত হয়: কৌশল ও সংহতি; জলবায়ু, প্রকৃতি ও ন্যায্য রূপান্তর; কর্মশক্তি, প্রতিভা ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক প্রভাব; দায়বদ্ধ উদ্ভাবন; ডিজিটাল রূপান্তর এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসপিএ জানিয়েছে, এই স্তম্ভগুলো ঘিরে দুই দিনের আলোচনা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি কী বলেছেন? মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি বলেছেন, বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমর্থন সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার, উদ্ভাবন ও সংলাপ সমর্থন এবং সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নেতৃত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি অংশগ্রহণকারীদের সংলাপ ও যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ফোরামের ফলাফল নিয়ে এসপিএ কী জানিয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, ফোরামটি ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে, যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে প্রতিটি স্তম্ভে কী সুপারিশ এসেছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা দেশগুলোর তালিকা, পরবর্তী আসরের সময়সূচি বা ফলোআপ ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।





