Saturday, November 7, 2026
সামাজিক

KSrelief ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় ৫,৫৪৫ জনের চোখ পরীক্ষা করেছে

KSrelief ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় ৫,৫৪৫ জনের চোখ পরীক্ষা করেছে

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ৫,৫৪৫ জনের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ৪০৬টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (KSrelief) সৌদি নূর স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির আওতায় এই কাজ করেছে। কর্মসূচিটি ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আদ্দিস আবাবা শহরে চলেছে। এতে বিভিন্ন বিশেষত্বের চারজন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন এবং আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক দল ৫,৫৪৫ জনকে পরীক্ষা করেছে, ৪০৬টি অস্ত্রোপচার করেছে এবং ১,১৫০ জোড়া প্রেসক্রিপশন চশমা বিতরণ করেছে।

অন্ধত্ব ও চোখের রোগ মোকাবিলায় এই কর্মসূচি সৌদি আরবের চলমান মানবিক ও ত্রাণ প্রচেষ্টার অংশ। KSrelief-এর মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যাতে রোগী ও আহতদের কষ্ট যেখানেই থাকুক, লাঘব করা যায়।

আদ্দিস আবাবায় চোখের চিকিৎসার চাহিদা কতটা বিস্তৃত, তা ৫,৫৪৫ জন পরীক্ষিত রোগীর সংখ্যাই স্পষ্ট করে দেয়। মাত্র নয় দিনের মধ্যে এত মানুষ পরীক্ষা করা মানে প্রতিদিন গড়ে ছয়শরও বেশি মানুষ চিকিৎসকের সামনে এসেছেন। প্রশ্ন হলো, এই স্বেচ্ছাসেবক দলটি কীভাবে এত বড় সংখ্যক রোগীর ভিড় সামলেছে?

চারজন স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন বিশেষত্ব থেকে এসেছেন। অর্থাৎ দলটির সদস্য সংখ্যা কম হলেও দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল বিস্তৃত। ৪০৬টি অস্ত্রোপচার মানে পরীক্ষিত রোগীদের একটি অংশের জন্য এটি ছিল শুধু পরামর্শ নয়, সরাসরি চিকিৎসা। আর ১,১৫০ জোড়া প্রেসক্রিপশন চশমা মানে অনেকের জন্য দৃষ্টি ফেরার প্রথম ধাপ। প্রশ্ন দাঁড়ায়, চশমা পাওয়া ১,১৫০ জনের মধ্যে কতজন আগে কখনো চোখ পরীক্ষা করাননি?

কর্মসূচির সময়সীমা ছিল ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এই নয় দিনের মধ্যে পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণ—তিনটি কাজই একসঙ্গে হয়েছে। এমন সমন্বিত কার্যক্রমের জন্য আগে থেকেই রোগী শনাক্তকরণ, অপারেশন কক্ষ প্রস্তুত করা ও চশমার মজুত গুছিয়ে রাখা দরকার। স্থানীয় অংশীদার ছাড়া এ কাজ কতটা সম্ভব হতো?

আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতা এই কর্মসূচির একটি স্পষ্ট দিক। এসপিএ জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ছাড়া বিদেশে এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসা শিবির চালানো কঠিন। তাহলে অংশীদার নির্বাচনের মানদণ্ড কী ছিল?

KSrelief-এর এই কাজকে এসপিএ সৌদি আরবের চলমান মানবিক ও ত্রাণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য রোগী ও আহতদের কষ্ট লাঘব করা, তারা যেখানেই থাকুক। অন্ধত্ব ও চোখের রোগ মোকাবিলা তাই এই প্রচেষ্টার একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র। প্রশ্ন হলো, চোখের রোগকে কেন আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়?

আদ্দিস আবাবা ইথিওপিয়ার রাজধানী। সেখানে এই কর্মসূচি চালানো হয়েছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিক বা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, শহরটিতে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে এই স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয় কেমন ছিল, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তাহলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কী ছিল?

পরীক্ষিত রোগীর সংখ্যা ৫,৫৪৫ এবং অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ৪০৬—এই দুটি সংখ্যার অনুপাত লক্ষণীয়। অর্থাৎ পরীক্ষিতদের একটি ছোট অংশের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে সম্ভবত ওষুধ, পরামর্শ বা চশমাই যথেষ্ট ছিল। ১,১৫০ জোড়া চশমা বিতরণ সেই ধারণাকেই সমর্থন করে। প্রশ্ন হলো, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের শনাক্তকরণ কীভাবে হয়েছিল?

স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা চারজন। এসপিএ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন বিশেষত্ব থেকে এসেছেন। চারজন বিশেষজ্ঞের একটি দল নয় দিনে ৫,৫৪৫ জনকে পরীক্ষা করেছেন। এই সংখ্যা নিজেই দলটির কাজের চাপ বোঝায়। এমন চাপে গুণগত মান ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

কর্মসূচির নাম সৌদি নূর স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি। এটি KSrelief বাস্তবায়ন করেছে। নামের সঙ্গে অন্ধত্ব ও চোখের রোগ মোকাবিলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে কর্মসূচির মোট ব্যয়, সময়কালের বাইরের পরিকল্পনা বা ভবিষ্যতে এটি আবার চালু হবে কি না—এসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রশ্ন থেকে যায়, এই ধরনের কর্মসূচি কি নিয়মিত হবে?

প্রতিবেদনে চশমার ধরন সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেগুলো প্রেসক্রিপশন চশমা। অর্থাৎ রোগীর দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত চশমা। ১,১৫০ জোড়া এমন চশমা বিতরণ মানে আগে দৃষ্টি পরীক্ষা করে পাওয়ার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই চশমাগুলো কতদিন ব্যবহারযোগ্য?

অস্ত্রোপচারের ধরন এসপিএ-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ৪০৬টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চোখের রোগের মধ্যে ছানি, গ্লুকোমা বা অন্যান্য সমস্যা থাকতে পারে। কোন রোগের জন্য কতটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেই বিভাজন প্রতিবেদনে নেই। তাহলে সবচেয়ে বেশি কোন সমস্যা পাওয়া গেছে?

এই কর্মসূচি সৌদি আরবের বাইরে, আফ্রিকার একটি দেশে চালানো হয়েছে। ইথিওপিয়ার রাজধানীতে। KSrelief-এর মানবিক কাজ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে বলে এসপিএ উল্লেখ করেছে। তবে এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির জন্য কেন আদ্দিস আবাবাকে বেছে নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই। প্রশ্ন দাঁড়ায়, স্থান নির্বাচনের ভিত্তি কী ছিল?

নয় দিনের কর্মসূচিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৬০০-র বেশি রোগী পরীক্ষা হয়েছে। এই দুটি কাজ একসঙ্গে চালাতে অপারেশন থিয়েটার, প্রস্তুতি কক্ষ ও বহির্বিভাগ—সব বিভাগেই সমন্বয় দরকার। চারজন স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় সহযোগীদের নিয়ে এটি কীভাবে সম্ভব হলো?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে রোগীদের বয়স, লিঙ্গ বা তাদের এলাকার কোনো বিবরণ নেই। শুধু মোট সংখ্যা দেওয়া হয়েছে। আদ্দিস আবাবা শহরের বাইরের রোগীরা এসেছিলেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। প্রশ্ন হলো, সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষ এই সেবা পেয়েছেন কি?

KSrelief-এর কাজকে প্রতিবেদনে সৌদি আরবের চলমান প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্ধত্ব মোকাবিলা সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ এই কাজের একটি বৈশিষ্ট্য। চারজন স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন বিশেষত্ব থেকে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে আরও স্বেচ্ছাসেবক যোগ হবে কি?

আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন চোখের চিকিৎসায় কাজ করে বলে প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়। তবে ফাউন্ডেশনটি কীভাবে রোগী বাছাই, অপারেশন পরবর্তী সেবা বা ফলোআপ পরিচালনা করেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। প্রশ্ন থেকে যায়, অপারেশনের পর রোগীদের ফলোআপ কে করবে?

প্রতিবেদনে কর্মসূচির সূচনা ও সমাপ্তির তারিখ স্পষ্ট। ১১ সেপ্টেম্বর শুরু, ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ। ঘোষণা এসেছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। অর্থাৎ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, ফলাফল যাচাইয়ের কোনো স্বাধীন প্রক্রিয়া ছিল কি?

সৌদি নূর স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির এই পর্ব আদ্দিস আবাবায় শেষ হয়েছে। ৫,৫৪৫ জন পরীক্ষিত, ৪০৬টি অস্ত্রোপচার, ১,১৫০ জোড়া চশমা—এই তিনটি সংখ্যাই প্রতিবেদনের মূল তথ্য। এসপিএ আর কোনো অতিরিক্ত বিবরণ দেয়নি। কর্মসূচির মোট ব্যয়, রোগীদের ফলোআপ পরিকল্পনা বা ভবিষ্যতের সময়সূচি প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।

সৌদি নূর স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি কোথায় ও কখন চলেছে? কর্মসূচিটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা শহরে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (KSrelief) এটি বাস্তবায়ন করেছে এবং আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিশেষত্বের চারজন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে কী কী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে? স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক দল ৫,৫৪৫ জনকে পরীক্ষা করেছে, ৪০৬টি অস্ত্রোপচার করেছে এবং ১,১৫০ জোড়া প্রেসক্রিপশন চশমা বিতরণ করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল অন্ধত্ব ও চোখের রোগ মোকাবিলা করা। অস্ত্রোপচারের ধরন বা রোগভিত্তিক বিভাজন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এই কর্মসূচি কার উদ্যোগে এবং কেন চালানো হয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, এটি সৌদি আরবের চলমান মানবিক ও ত্রাণ প্রচেষ্টার অংশ, যা KSrelief-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। উদ্দেশ্য হলো রোগী ও আহতদের কষ্ট লাঘব করা, তারা যেখানেই থাকুক। অন্ধত্ব ও চোখের রোগ মোকাবিলা সেই প্রচেষ্টার একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র। স্থান নির্বাচনের কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

কর্মসূচিতে কারা অংশ নিয়েছেন এবং কারা সহযোগিতা করেছে? এসপিএ জানিয়েছে, বিভিন্ন বিশেষত্বের চারজন স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সংখ্যা কম হলেও নয় দিনে ৫,৫৪৫ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনের ভূমিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে কী কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএ-র প্রতিবেদনে কর্মসূচির মোট ব্যয়, অস্ত্রোপচারের ধরন, রোগীদের বয়স বা এলাকার বিবরণ এবং অপারেশন পরবর্তী ফলোআপ পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আবার চালু হবে কি না, তাও বলা হয়নি। শুধু পরীক্ষিত রোগীর সংখ্যা, অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ও বিতরণ করা চশমার সংখ্যা দেওয়া হয়েছে।