সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) ২০২৬ সালের জন্য জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) প্রদত্ত গ্লোবাল পেশেন্ট সেফটি অ্যাওয়ার্ডের হেলথকেয়ার অর্গানাইজেশন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে। এই বছরই প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস বিভাগের তৈরি করা সেফ ট্রান্সপোর্ট ইভালুয়েশন প্রোটোকল (এসটিইপি) নামের একটি ব্যবস্থার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার মিলেছে, যা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগী স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১১ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, ৩২টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো ২৫০টিরও বেশি আবেদন থেকে কেএফএসএইচ জেদ্দাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, তার একটি কেএফএসএইচ জেদ্দা।
এই প্রোটোকলটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস দলের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে একটি পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করেছিলেন। দেখা যাচ্ছিল, অনেক রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার বা অন্য ইউনিটে স্থানান্তরের সাত দিনের মধ্যে আবার জরুরি বিভাগে ফিরে আসছেন। এর পেছনে তিনটি কারণ ছিল—অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, ছাড়পত্র দেওয়ার পর ধরা পড়েনি এমন শারীরিক অবনতি, এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরীক্ষার ফলাফল যুক্ত না হওয়া। এসটিইপি চালু হওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে জরুরি বিভাগে ফেরার হার ২৪ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
হাসপাতালটি রোগী পরিবহনকে নিছক একটি লজিস্টিক ধাপ হিসেবে না দেখে বরং রোগী নিরাপত্তার শেষ প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে নতুন করে সাজিয়েছে। প্রতিটি পরিবহন অনুরোধের সময় প্যারামেডিক রোগীর ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড পর্যালোচনা করেন, স্বাধীনভাবে ক্লিনিকাল মূল্যায়ন করেন, হ্যান্ডওভার নোট ও ডায়াগনস্টিক ফলাফল পরীক্ষা করেন এবং রোগীকে সরানোর ঠিক আগে রোগীর সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যদের মতামতও আমলে নেন।
অ্যালাইড মেডিকেল সার্ভিসেসের পরিচালক হানাদি আল সালমি ব্যাখ্যা করেছেন যে এই পুরস্কার চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে—বিশেষ করে চিকিৎসা ইউনিটগুলোর মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময়—নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতি কেএফএসএইচের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ উন্নত করার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে।
জেসিআই এই পুরস্কার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের সেইসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে দেয়, যারা নিরাপদ ও উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক রোগী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল আবেদনগুলো মূল্যায়ন করেন। উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে তারা এই মূল্যায়ন করেন।
কেএফএসএইচ জেদ্দার এই অর্জন সৌদি আরবের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি হাসপাতালের সাফল্য কি সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বদলে দিতে পারে? জেসিআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার পুরস্কার পাওয়া মানে কী—শুধু সম্মান, নাকি রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন?
রোগী স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন এত জরুরি? কারণ হাসপাতালের একটি বিভাগ থেকে আরেকটি বিভাগে বা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যাওয়ার সময় রোগীর তথ্য হারিয়ে যেতে পারে, ওষুধের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, কিংবা নতুন চিকিৎসক পুরোনো পরীক্ষার ফলাফল দেখতে না পান। এসটিইপি ঠিক এই ফাঁকগুলোই বন্ধ করার চেষ্টা করে।
এসটিইপি কীভাবে কাজ করে? প্রতিটি পরিবহন অনুরোধ এলেই প্যারামেডিক রোগীর ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড খুলে দেখেন। তিনি নিজে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। হ্যান্ডওভার নোট ও ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট পরীক্ষা করেন। রোগীর সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য নেন। এই চারটি ধাপ একসঙ্গে মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, রোগীকে সরানোর আগে আর কিছু করা দরকার কি না।
সাত দিনের মধ্যে জরুরি বিভাগে ফেরার হার ২৪ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নামা মানে কী? এর মানে, আগে প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে প্রায় একজন সাত দিনের মধ্যে ফিরে আসছিলেন। এখন প্রতি এগারোজন রোগীর মধ্যে মাত্র একজন ফিরে আসছেন। এই পরিবর্তন রোগীর ভোগান্তি কমায়, হাসপাতালের সম্পদ বাঁচায় এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
কেএফএসএইচ জেদ্দা কীভাবে ২৫০টিরও বেশি আবেদনের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিল? ৩২টি দেশের প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ জমা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্যানেল উদ্ভাবন, ফলাফল ও প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে। এই ক্যাটাগরিতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, যা প্রতিযোগিতার তীব্রতা বোঝায়।
হানাদি আল সালমি বলেছেন, এই পুরস্কার কেএফএসএইচের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি চিকিৎসা ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ উন্নত করার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সমন্বয় কি শুধু একটি হাসপাতালের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়বে?
জেসিআই পুরস্কারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের প্রতিষ্ঠানদের জন্য। এর মানে, সৌদি আরবের একটি হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। কিন্তু এই স্বীকৃতি কি রোগীদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনবে? নাকি এটি শুধু একটি প্রশংসাপত্র হয়ে থাকবে?
রোগী পরিবহনকে ‘শেষ প্রতিরক্ষা স্তর’ হিসেবে দেখা একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সাধারণত পরিবহনকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে করা হয়। কিন্তু কেএফএসএইচ জেদ্দা দেখিয়েছে, এই ধাপেই অনেক সমস্যা ধরা পড়তে পারে। প্যারামেডিক যদি রোগীর ইএমআর না দেখেন, যদি হ্যান্ডওভার নোট পরীক্ষা না করেন, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যেতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের মতামত নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ রোগীরা অনেক সময় নিজের অবস্থা ঠিকভাবে বলতে পারেন না। পরিবারের সদস্যরা রোগীর সাম্প্রতিক পরিবর্তন, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানেন। এই তথ্য চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে বড় পার্থক্য আনতে পারে।
কেএফএসএইচ জেদ্দার এই সাফল্য কি অন্য হাসপাতালগুলোর জন্য অনুকরণীয়? এসটিইপি একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল, যা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস বিভাগ তৈরি করেছে। অন্য হাসপাতালও যদি নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থায় অনুরূপ ধাপ যুক্ত করে, তাহলে রোগী নিরাপত্তা বাড়তে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সব হাসপাতালের কি একই ধরনের সম্পদ ও প্রশিক্ষণ আছে?
জেসিআইয়ের মূল্যায়ন মানদণ্ডে উদ্ভাবন অন্যতম। কেএফএসএইচ জেদ্দা কী উদ্ভাবন করেছে? তারা পরিবহনকে একটি সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। প্যারামেডিককে শুধু রোগী বহনকারী নয়, বরং একজন স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি প্রক্রিয়াগত উদ্ভাবন।
সাত দিনের মধ্যে ফেরার হার কমানো একটি পরিমাপযোগ্য ফলাফল। ২৪ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ—এই সংখ্যাটি স্পষ্ট। কিন্তু এই সাফল্য কি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব? প্রশ্ন হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হার আরও কমবে, নাকি স্থির থাকবে?
সৌদি আরবের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। কেএফএসএইচ জেদ্দার এই পুরস্কার সেই প্রচেষ্টার একটি প্রমাণ। কিন্তু একটি পুরস্কার কি সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের গ্যারান্টি? না, এটি একটি সূচনা মাত্র। আসল কাজ হলো প্রতিদিনের চিকিৎসায় এই মান ধরে রাখা।
রোগী নিরাপত্তা শুধু যন্ত্রপাতি বা ওষুধের বিষয় নয়। এটি যোগাযোগ, সমন্বয় ও সতর্কতার সমন্বিত ফল। কেএফএসএইচ জেদ্দার এসটিইপি সেই সতর্কতারই একটি উদাহরণ। প্যারামেডিক যখন রোগীর ইএমআর পর্যালোচনা করেন, তখন তিনি একটি সম্ভাব্য বিপদ আগেই ধরতে পারেন।
জেসিআই গ্লোবাল পেশেন্ট সেফটি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সালের জন্য প্রথমবার দেওয়া হচ্ছে। এই প্রথমবারেই কেএফএসএইচ জেদ্দা বিজয়ী হয়েছে। ৩২টি দেশের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হওয়া একটি বড় অর্জন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আগামী বছরগুলোতে এই পুরস্কার কি আরও বেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাবে?
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে দায় কার? চিকিৎসক, নার্স, নাকি পরিবহন দল? এসটিইপি এই দায়কে স্পষ্ট করে। প্রতিটি ধাপে কে কী করবেন, তা নির্ধারিত। এই স্পষ্টতা ভুল কমায়।
পরীক্ষার ফলাফল চিকিৎসা পরিকল্পনায় যুক্ত না হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় রোগী ছাড়া পাওয়ার আগে পরীক্ষা করা হয়, কিন্তু ফলাফল পরে আসে। সেই ফলাফল যদি পরবর্তী চিকিৎসকের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে সমস্যা হয়। এসটিইপি এই ফাঁক বন্ধ করে।
কেএফএসএইচ জেদ্দার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস দল কীভাবে এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করল? তারা মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, কিছু রোগী বারবার ফিরে আসছেন। তারা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান কারণ খুঁজে বের করলেন। তারপর সেই কারণগুলোর সমাধানে প্রোটোকল তৈরি করলেন।
এই পুরস্কার কি রোগীদের আস্থা বাড়াবে? সম্ভবত। যখন একটি হাসপাতাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, তখন রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে আরও আগ্রহী হন। কিন্তু আসল আস্থা তৈরি হয় প্রতিদিনের সেবার মানে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, কেএফএসএইচ জেদ্দা ২৫০টিরও বেশি আবেদনের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়েছে। এই সংখ্যাটি প্রতিযোগিতার মাত্রা বোঝায়। ৩২টি দেশের প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অংশ নিয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে মাত্র তিনটি বিজয়ী হয়েছে।
প্রোটোকলের নাম এসটিইপি—সেফ ট্রান্সপোর্ট ইভালুয়েশন প্রোটোকল। এটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগী স্থানান্তরের জন্য তৈরি। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মানে সেইসব রোগী, যাদের অবস্থা স্থানান্তরের সময় খারাপ হতে পারে। এই প্রোটোকল সেই ঝুঁকি কমায়।
হানাদি আল সালমি অ্যালাইড মেডিকেল সার্ভিসেসের পরিচালক। তিনি বলেছেন, এই পুরস্কার কেএফএসএইচের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি চিকিৎসা ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রোটোকলটি শুধু পরিবহন দলের কাজ নয়, বরং পুরো হাসপাতালের সমন্বিত প্রচেষ্টা।
জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা স্বাস্থ্যসেবার মান মূল্যায়ন করে। তাদের পুরস্কার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এই পুরস্কার পাওয়া মানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মানদণ্ড কি সব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য?
রোগী স্থানান্তরের সময় পরিবারের সদস্যদের মতামত নেওয়া একটি মানবিক দিক। এটি রোগী ও পরিবারের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। প্যারামেডিক যখন পরিবারের কথা শোনেন, তখন তিনি আরও সম্পূর্ণ চিত্র পান। এই তথ্য চিকিৎসা সিদ্ধান্তে সহায়ক।
সাত দিনের মধ্যে ফেরার হার কমানো মানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চাপ কমা। জরুরি বিভাগের সম্পদ সীমিত। যদি রোগী কম ফিরে আসেন, তাহলে সেই সম্পদ অন্য রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যায়। এটি একটি ব্যবস্থাপনাগত লাভ।
কেএফএসএইচ জেদ্দার এই সাফল্য কি অন্য হাসপাতালের জন্য একটি মডেল? হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। এসটিইপি একটি কাঠামো দেয়, যা অন্যরা নিজেদের মতো করে প্রয়োগ করতে পারে।
প্রশ্ন হলো, এই পুরস্কার কি সৌদি আরবের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে? সম্ভবত। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়। কিন্তু আসল পরিবর্তন আসে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে।
রোগী নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি পুরস্কার পাওয়া মানে থেমে যাওয়া নয়। বরং এটি আরও উন্নতির প্রেরণা। কেএফএসএইচ জেদ্দা যদি এই মান ধরে রাখতে পারে, তাহলে রোগীরা সত্যিকারের উপকৃত হবেন।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের তারিখ, স্থান বা পুরস্কার গ্রহণের সময় কে উপস্থিত ছিলেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া এসটিইপি প্রোটোকলের বিস্তারিত কারিগরি বিবরণ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বা ব্যয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এই প্রোটোকল অন্য হাসপাতালে প্রয়োগ করা হবে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
কেএফএসএইচ জেদ্দা কোন পুরস্কার জিতেছে এবং কেন? কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) জেদ্দা ২০২৬ সালের জেসিআই গ্লোবাল পেশেন্ট সেফটি অ্যাওয়ার্ডের হেলথকেয়ার অর্গানাইজেশন ক্যাটাগরিতে জিতেছে। এই পুরস্কার প্রথমবারের মতো দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেস বিভাগের তৈরি সেফ ট্রান্সপোর্ট ইভালুয়েশন প্রোটোকল (এসটিইপি) উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগী স্থানান্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার মিলেছে।
এসটিইপি প্রোটোকল কীভাবে কাজ করে? প্রতিটি পরিবহন অনুরোধের সময় প্যারামেডিক রোগীর ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড পর্যালোচনা করেন, স্বাধীন ক্লিনিকাল মূল্যায়ন করেন, হ্যান্ডওভার নোট ও ডায়াগনস্টিক ফলাফল পরীক্ষা করেন এবং রোগীকে সরানোর আগে পরিবারের সদস্যদের মতামত নেন। এই চারটি ধাপ মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, রোগীকে সরানোর আগে আর কিছু করা দরকার কি না।
এসটিইপি চালু হওয়ার আগে ও পরে কী পরিবর্তন হয়েছে? প্রোটোকল চালু হওয়ার আগে সাত দিনের মধ্যে জরুরি বিভাগে ফেরার হার ছিল ২৪ শতাংশ। চালু হওয়ার পর তা কমে ৯ শতাংশে নেমেছে। আগে প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে প্রায় একজন ফিরে আসছিলেন, এখন প্রতি এগারোজন রোগীর মধ্যে মাত্র একজন ফিরে আসছেন।
কেএফএসএইচ জেদ্দা কতটি আবেদনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে? ৩২টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো ২৫০টিরও বেশি আবেদন থেকে কেএফএসএইচ জেদ্দাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, তার একটি কেএফএসএইচ জেদ্দা। আন্তর্জাতিক রোগী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আবেদনগুলো মূল্যায়ন করেছে।
জেসিআই পুরস্কার কাদের দেওয়া হয়? জেসিআই এই পুরস্কার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের সেইসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে দেয়, যারা নিরাপদ ও উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক রোগী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে আবেদনগুলো মূল্যায়ন করেন। এই বছরই প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
হানাদি আল সালমি এই পুরস্কার সম্পর্কে কী বলেছেন? অ্যালাইড মেডিকেল সার্ভিসেসের পরিচালক হানাদি আল সালমি বলেছেন, এই পুরস্কার চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে—বিশেষ করে চিকিৎসা ইউনিটগুলোর মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময়—নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতি কেএফএসএইচের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ উন্নত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।