জাজান অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি ফলদায়ী কফি গাছ বছরে ৬৫০ টনের বেশি খাঁটি কফি উৎপাদন করছে, আর এই খাতটি তিন শতাব্দীরও বেশি কৃষি ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক বিনিয়োগকে মিলিয়ে দিচ্ছে। ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস উপলক্ষে সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ এই চিত্র তুলে ধরেছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহাসিক পাহাড়ি সিঁড়ি-জমিতে চাষ হওয়া সৌদি কফি ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়, যখন ইউনেস্কো «খাওলানি কফি বীজ চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান ও চর্চা»-কে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এই স্বীকৃতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আগের কিছু উদ্যোগের ওপর। ২০১৩ সালে আল-দায়ের গভর্নরেটে একটি কফি উৎসব চালু হয়, আর ২০১৬ সালে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয় সিঁড়ি-জমি পুনর্বাসন, চারাগাছ বিতরণ ও সেচব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য। তিন শতাব্দীর চর্চা যদি টিকে থাকে, তবে তা কেবল স্মৃতির জোরে, নাকি এমন সুনির্দিষ্ট সহায়তার জোরেও?
খাতটির প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাজান কফি কোঅপারেটিভ। এটি রাজ্যের প্রথম বিশেষায়িত কফি সমবায়, যা ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সমবায়টি এখন ২,৩০০-এর বেশি কৃষক ও সুবিধাভোগীর সেবা দেয়, যার মধ্যে ৮৫০ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। পাশাপাশি ১৫০-এর বেশি নারী অংশগ্রহণকারীকে ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে এবং ফসলের গুণমান ও বাজারপ্রবেশ বাড়াতে ১৫টিরও বেশি কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে জোরালো আর্থিক সহায়তাও। কৃষি উন্নয়ন তহবিলের জাজান শাখার তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ উন্নয়ন অর্থায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে সৌদি কফি খাতে বরাদ্দ ৬০ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। এই সহায়তা কৃষকদের খামারের অবকাঠামো উন্নত করতে ও ফলন বাড়াতে সহায়তা করে। জাজানের জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কীভাবে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক চালিকায় পরিণত হচ্ছে, তা এই তথ্যই দেখায়।
কফি চাষ এখানে কেবল কৃষিকাজ নয়, বরং পাহাড়ি ভূদৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জীবনধারা। ঐতিহাসিক সিঁড়ি-জমিগুলো এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়েছে, আর সেই জমিতেই খাওলানি কফি বীজের চাষ ও পরিচর্যার চর্চা গড়ে উঠেছে। ইউনেস্কোর ২০২২ সালের তালিকাভুক্তি সেই চর্চার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি কি কৃষকদের আয় বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে?
২০১৩ সালের আল-দায়ের কফি উৎসব ছিল স্থানীয় উদ্যোগের প্রথম বড় প্রকাশ। এরপর ২০১৬ সালে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারিত হয়। সিঁড়ি-জমি পুনর্বাসন, চারাগাছ বিতরণ ও সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন—এই তিনটি ধারায় সহায়তা এগোয়। এসব পদক্ষেপ ছাড়া কি এক শতাব্দীর বেশি পুরোনো চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো?
জাজান কফি কোঅপারেটিভের ভূমিকা এখানে উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের প্রথম বিশেষায়িত কফি সমবায় হিসেবে এটি ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে। ২,৩০০-এর বেশি কৃষক ও সুবিধাভোগী, ৮৫০ শেয়ারহোল্ডার, ১৫০-এর বেশি নারী অংশগ্রহণকারী এবং ১৫টিরও বেশি কৌশলগত অংশীদারিত্ব—এই সংখ্যাগুলোই দেখায় সমবায়টি কতটা বিস্তৃত। ফসলের গুণমান ও বাজারপ্রবেশ উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।
অর্থায়নের দিকটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উন্নয়ন তহবিলের জাজান শাখার তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে সৌদি কফি খাতে বরাদ্দ ৬০ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়িয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়ন অর্থায়নের অংশ। এই অর্থ কৃষকদের খামার অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে এবং ফলন সর্বোত্তম করতে কাজে লাগে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই অর্থায়ন কি ছোট কৃষকদের কাছেও সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে?
বছরে ৬৫০ টনের বেশি খাঁটি কফি উৎপাদন এবং ১০ লাখের বেশি ফলদায়ী গাছ—এই দুই সংখ্যা মিলিয়ে জাজানের কফি খাতের বর্তমান আকার বোঝা যায়। তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য আর আধুনিক বিনিয়োগের এই সমন্বয়ই খাতটিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে টিকতে গেলে গুণমান ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
আল-দায়ের গভর্নরেটের কফি উৎসব ২০১৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় কফি চাষের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে। ২০১৬ সালের সরকারি সহায়তা সেই ধারাকে আরও গভীর করে। সিঁড়ি-জমির পুনর্বাসন শুধু কৃষির প্রশ্ন নয়, ভূমিক্ষয় রোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও প্রশ্ন। এসব কাজে কৃষকদের সরাসরি অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
নারী অংশগ্রহণকারীদের ক্ষমতায়ন এই খাতের আরেকটি দিক। সমবায়ের মাধ্যমে ১৫০-এর বেশি নারী যুক্ত হচ্ছেন। কফি চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে তাঁদের ভূমিকা বাড়ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই অংশগ্রহণ কি দীর্ঘমেয়াদে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে?
কৌশলগত অংশীদারিত্বের সংখ্যা ১৫-এর বেশি। এসব অংশীদারিত্ব ফসলের গুণমান উন্নয়ন ও বাজারপ্রবেশ বাড়াতে কাজ করছে। স্থানীয় উৎপাদক ও বাজার—এই দুই প্রান্তের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সমবায় ও অংশীদারিত্বের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। তবে এসব উদ্যোগের সুফল কত দ্রুত সাধারণ কৃষকের ঘরে পৌঁছাবে?
কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সহায়তা খামার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চারাগাছ বিতরণ ও সিঁড়ি-জমি পুনর্বাসন—এই তিন ক্ষেত্রেই অর্থায়নের ভূমিকা আছে। ২০২৫ সালে ৬০ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়ানো বরাদ্দ গ্রামীণ উন্নয়নের বিস্তৃত কাঠামোর অংশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে খাতের আকার আরও বাড়বে কি?
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি সৌদি কফির পরিচিতি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাড়িয়েছে। খাওলানি কফি বীজের চাষ ও পরিচর্যার জ্ঞান এখন মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এই স্বীকৃতি কেবল সম্মান নয়, বাজারে আলাদা পরিচয়ও তৈরি করে। সেই পরিচয়কে কি কৃষকরা অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ দিতে পারছেন?
জাজানের কফি খাত তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য ও আধুনিক বিনিয়োগের মিলনস্থল। ১০ লাখের বেশি গাছ, ৬৫০ টনের বেশি বার্ষিক উৎপাদন, ২,৩০০-এর বেশি সুবিধাভোগী কৃষক এবং ৬০ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়ানো অর্থায়ন—এই উপাদানগুলো একসঙ্গে খাতটির বর্তমান চেহারা গড়ে তুলেছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে উৎপাদনের মূল্য, রপ্তানির পরিমাণ বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
জাজানের কফি খাতের বর্তমান আকার কেমন? জাজান অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি ফলদায়ী কফি গাছ রয়েছে, যা বছরে ৬৫০ টনের বেশি খাঁটি কফি উৎপাদন করে। এসপিএ জানিয়েছে, এই খাত তিন শতাব্দীরও বেশি কৃষি ঐতিহ্য ও সম্প্রসারিত আধুনিক বিনিয়োগের সমন্বয়। ঐতিহাসিক পাহাড়ি সিঁড়ি-জমিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই চাষ হয়ে আসছে।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি কখন ও কী জন্য দেওয়া হয়? ২০২২ সালে ইউনেস্কো «খাওলানি কফি বীজ চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান ও চর্চা»-কে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এসপিএ জানিয়েছে, এই স্বীকৃতি আগের কিছু উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে আল-দায়ের গভর্নরেটে কফি উৎসব চালু এবং ২০১৬ সালে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণ অন্যতম।
জাজান কফি কোঅপারেটিভ কী কাজ করে? জাজান কফি কোঅপারেটিভ রাজ্যের প্রথম বিশেষায়িত কফি সমবায়, যা ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এসপিএ জানিয়েছে, এটি ২,৩০০-এর বেশি কৃষক ও সুবিধাভোগীর সেবা দেয় এবং ৮৫০ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে। পাশাপাশি ১৫০-এর বেশি নারী অংশগ্রহণকারীকে ক্ষমতায়ন এবং ১৫টিরও বেশি কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কফি খাতে কত অর্থায়ন হয়েছে? কৃষি উন্নয়ন তহবিলের জাজান শাখার তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ উন্নয়ন অর্থায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে সৌদি কফি খাতে বরাদ্দ ৬০ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই সহায়তা কৃষকদের খামার অবকাঠামো উন্নত করতে ও ফলন সর্বোত্তম করতে সহায়তা করে। জাজানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এটি টেকসই অর্থনৈতিক চালিকায় রূপ দিতে কাজ করছে।
সরকারি সহায়তা কখন শুরু হয়? ২০১৩ সালে আল-দায়ের গভর্নরেটে কফি উৎসব চালু হয়, এরপর ২০১৬ সালে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারিত হয়। এসপিএ জানিয়েছে, এই সহায়তার মধ্যে সিঁড়ি-জমি পুনর্বাসন, চারাগাছ বিতরণ ও সেচব্যবস্থা আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত। এসব পদক্ষেপ জাজানের কফি চাষের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করতে সহায়তা করেছে।





