Tuesday, November 3, 2026
বিজ্ঞান

সৌদি আরব দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের জাতীয় কাঠামো জোরদার করেছে

সৌদি আরব দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের জাতীয় কাঠামো জোরদার করেছে

সৌদি আরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য তার জাতীয় কাঠামো জোরদার করেছে। এর আওতায় রয়েছে একগুচ্ছ বিধিমালা, নীতি ও নৈতিক নীতি, যেগুলোর লক্ষ্য উদ্ভাবনকে সহায়তা করা, অধিকার রক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি প্রশমিত করা।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটি (এসডিএআইএ) প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জাতীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসডিএআইএ-র নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগগুলো একটি জাতীয় কৌশল দ্বারা পরিচালিত, যা সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এই কৌশলের লক্ষ্য সৌদি আরবকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতির কাতারে পৌঁছে দেওয়া।

কিন্তু একটি জাতীয় কাঠামো কেবল নীতিমালার তালিকা নয়—এর প্রতিটি উপকরণ কীভাবে বাস্তবে কাজ করবে, সেটাই তো আসল প্রশ্ন। এসপিএ জানিয়েছে, এই কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এআই এথিক্স প্রিন্সিপলস, এআই অ্যাডপশন ফ্রেমওয়ার্ক, জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গাইডলাইনস ফর গভর্নমেন্ট, ন্যাশনাল অকুপেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডেটা অ্যান্ড এআই এবং ন্যাশনাল এআই ইনডেক্স (এনএআইআই)। এর মধ্যে এনএআইআই সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি পরিমাপ করে এবং তাদের অগ্রগতি অনুসরণ করে।

এই উপকরণগুলো বুদ্ধিমান সিস্টেমের পুরো জীবনচক্রজুড়ে পরিচালনার কিছু মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যাযোগ্যতা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন। প্রশ্ন হলো, এই নীতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে থাকবে, নাকি বাস্তব প্রয়োগে প্রতিফলিত হবে?

এসডিএআইএ জাতীয় এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোও চালু করেছে। এটি একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা, যা এআই-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, মূল্যায়ন, সমাধান ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পদ্ধতি প্রদান করে। এই কাঠামো সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করতে সক্ষম করে।

কেন এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রয়োজন পড়ল? কারণ এআই সিস্টেম এমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা প্রচলিত প্রযুক্তির ঝুঁকির থেকে ভিন্ন। এর সম্ভাব্য প্রভাব ব্যক্তিবিশেষ, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই কারণে কাঠামোটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের ওপর নির্মিত, যা এই ঝুঁকিগুলো আগাম অনুমান করে সমাধান করতে সক্ষম। এতে রয়েছে স্পষ্ট পরিচালনা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড, যেগুলোর উদ্দেশ্য ক্ষতির সম্ভাবনা ও তীব্রতা—উভয়ই কমানো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার করা এবং অধিকার, ডেটা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা।

এসডিএআইএ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু এই কাঠামোর প্রতিটি অংশ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত? এআই এথিক্স প্রিন্সিপলস নৈতিক ভিত্তি দেয়, অ্যাডপশন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণের পথ দেখায়, জেনারেটিভ এআই গাইডলাইনস সরকারি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে, পেশাগত মান কাঠামো দক্ষতা নিশ্চিত করে এবং জাতীয় সূচক অগ্রগতি মাপে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এই সবকিছুর নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে।

সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে এই জাতীয় কৌশলের সঙ্গতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও ডিজিটাল রূপান্তর। ডেটা ও এআই-চালিত অর্থনীতির শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবকে অবস্থান করানো সেই লক্ষ্যেরই অংশ। এসপিএ জানিয়েছে, এই কৌশল সৌদি আরবকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডেটা ও এআই-চালিত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই নীতিমালাগুলো কি উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে? এসপিএ-র বরাত অনুযায়ী, কাঠামোর লক্ষ্য উদ্ভাবনকে সহায়তা করা, অধিকার রক্ষা করা এবং ঝুঁকি প্রশমিত করা—এই তিনটি একসঙ্গে। অর্থাৎ উদ্ভাবন ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য খোঁজা হচ্ছে।

ন্যাশনাল এআই ইনডেক্স সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি পরিমাপ করে এবং অগ্রগতি অনুসরণ করে। এই সূচক কীভাবে বাস্তবে পরিবর্তন আনবে? এটি সংস্থাগুলোকে নিজেদের অবস্থান জানতে এবং উন্নতির দিক চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। এসপিএ জানিয়েছে, সূচকটি সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি পরিমাপ করে এবং তাদের অগ্রগতি অনুসরণ করে।

জেনারেটিভ এআই গাইডলাইনস শুধু সরকারের জন্য প্রযোজ্য। কেন সরকারি ব্যবহারে আলাদা নির্দেশিকা প্রয়োজন? কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে কাজ করে এবং তাদের হাতে নাগরিকদের ডেটা থাকে। এসপিএ জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা সরকারের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের নীতিমালা নির্ধারণ করে।

পেশাগত মান কাঠামো ডেটা ও এআই খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির দিকটি তুলে ধরে। এই খাতে দক্ষতা ছাড়া প্রযুক্তির সুফল পাওয়া কঠিন। এসপিএ জানিয়েছে, ন্যাশনাল অকুপেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডেটা অ্যান্ড এআই এই খাতের পেশাগত মান নির্ধারণ করে।

ব্যাখ্যাযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এর মানে হলো এআই সিস্টেমের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তা বোঝা যায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া এআই ব্যবস্থার ওপর আস্থা তৈরি হয় না। এসপিএ জানিয়েছে, এই কাঠামো ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যাযোগ্যতা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো পরিচালনা নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করে।

ঝুঁকি মূল্যায়ন শুধু একবারের কাজ নয়, এটি পুরো জীবনচক্রজুড়ে চলতে থাকে। সিস্টেম তৈরি, মোতায়েন ও পরিচালনার প্রতিটি ধাপে ঝুঁকি বদলাতে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই নীতিগুলো বুদ্ধিমান সিস্টেমের পুরো জীবনচক্রজুড়ে প্রযোজ্য।

এসডিএআইএ-র ভূমিকা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। এটি সৌদি আরবের ডেটা ও এআই-এর জাতীয় কর্তৃপক্ষ। এসপিএ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসডিএআইএ এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে স্পষ্ট পরিচালনা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড রয়েছে। এর লক্ষ্য ক্ষতির সম্ভাবনা ও তীব্রতা কমানো। এসপিএ জানিয়েছে, এই কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার করে এবং অধিকার, ডেটা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে।

এআই সিস্টেমের ঝুঁকি প্রচলিত প্রযুক্তির ঝুঁকির থেকে আলাদা। এর প্রভাব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই পার্থক্যের কারণেই একটি প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশ দরকার, যা ঝুঁকি আগাম অনুমান করে সমাধান করতে পারে।

সৌদি আরবের এই কাঠামো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে উল্লিখিত উপকরণগুলোর তালিকা ও তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। প্রতিবেদনে এই কাঠামোর নির্দিষ্ট কোনো বাস্তবায়ন সময়সীমা, তহবিল বা পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উল্লেখ নেই।

সৌদি আরবের এআই কাঠামোর নেতৃত্ব কে দিচ্ছে? সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটি (এসডিএআইএ) এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসপিএ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসডিএআইএ সৌদি আরবের ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জাতীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। এই উদ্যোগগুলো একটি জাতীয় কৌশল দ্বারা পরিচালিত, যা সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সৌদি আরবকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডেটা ও এআই-চালিত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।

কাঠামোয় কোন কোন উপকরণ রয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এআই এথিক্স প্রিন্সিপলস, এআই অ্যাডপশন ফ্রেমওয়ার্ক, জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গাইডলাইনস ফর গভর্নমেন্ট, ন্যাশনাল অকুপেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডেটা অ্যান্ড এআই এবং ন্যাশনাল এআই ইনডেক্স (এনএআইআই)। এনএআইআই সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি পরিমাপ করে এবং তাদের অগ্রগতি অনুসরণ করে।

কোন নৈতিক ও পরিচালনা নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, এই উপকরণগুলো বুদ্ধিমান সিস্টেমের পুরো জীবনচক্রজুড়ে পরিচালনার নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যাযোগ্যতা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন। এই নীতিগুলো সিস্টেম তৈরির শুরু থেকে পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রযোজ্য।

জাতীয় এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর উদ্দেশ্য কী? এসপিএ জানিয়েছে, এটি একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা, যা এআই-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, মূল্যায়ন, সমাধান ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পদ্ধতি প্রদান করে। এটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করতে সহায়তা করে। কাঠামোটি ক্ষতির সম্ভাবনা ও তীব্রতা কমাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার করতে কাজ করে।

এআই ঝুঁকি প্রচলিত প্রযুক্তির ঝুঁকির থেকে কীভাবে আলাদা? এসপিএ জানিয়েছে, এআই সিস্টেম এমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা প্রচলিত প্রযুক্তির ঝুঁকির থেকে ভিন্ন। এর সম্ভাব্য প্রভাব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে। এই কারণেই কাঠামোটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের ওপর নির্মিত, যাতে স্পষ্ট পরিচালনা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড রয়েছে।

এই কাঠামো উদ্ভাবনকে প্রভাবিত করবে কি? এসপিএ জানিয়েছে, এই বিধিমালা, নীতি ও নৈতিক নীতির লক্ষ্য উদ্ভাবনকে সহায়তা করা, অধিকার রক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি প্রশমিত করা। অর্থাৎ কাঠামোটি উদ্ভাবন বন্ধ করার বদলে নিরাপদ গ্রহণের পথ তৈরি করতে চায়। প্রতিবেদনে এই কাঠামোর নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সময়সীমা, তহবিল বা পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উল্লেখ নেই।