Saturday, November 7, 2026
অর্থনীতি

সিএমএ বিদেশের আর্থিক বাজারে ডিলিং কার্যক্রমের খসড়া বিধিমালায় জনমত চায়

সিএমএ বিদেশের আর্থিক বাজারে ডিলিং কার্যক্রমের খসড়া বিধিমালায় জনমত চায়

বিদেশের আর্থিক বাজারে ডিলিং কার্যক্রম পরিচালনার খসড়া নিয়ন্ত্রক বিধান নিয়ে মতামত চেয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট অথরিটি (সিএমএ)। পরামর্শের সময়কাল ৩০ দিন, যা ২৭/১০/২০২৬ তারিখে শেষ হবে। খসড়াটি ০১/১১/২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সিএমএ সব আগ্রহী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পুঁজিবাজারের অংশগ্রহণকারীদের কাছে খসড়া বিধান সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে।

খসড়ার লক্ষ্য হলো, পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজ্যের বাইরের আর্থিক বাজারে তাদের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লেনদেন করে, তখন সেই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী তদারকি কাঠামোকে শক্তিশালী করা। তাহলে প্রশ্ন হলো, সীমান্তের বাইরে সম্প্রসারিত এই কার্যক্রমের ওপর তদারকি বাড়ানো কেন এখন এত জরুরি হয়ে উঠল?

খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উপযুক্ততা বা সুটেবিলিটি সংক্রান্ত শর্তাবলি রাজ্যের বাইরের আর্থিক বাজারে সম্পন্ন হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। শর্ত হলো, সেই বাজারগুলো মূল বাজার বা তালিকাভুক্ত ঋণ উপকরণ বাজারের সমতুল্য হতে হবে, যা ক্যাপিটাল মার্কেট ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনসে উল্লিখিত শর্তাবলি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সে অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানকে ওই বাজারগুলোতে ক্লায়েন্টের সঙ্গে ডিলিং শুরু করার আগেই উপযুক্ততার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। তবে পরবর্তী প্রতিটি লেনদেন সম্পাদনের সময় আবার উপযুক্ততা পুনর্মূল্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। ব্যতিক্রম কেবল তখনই, যখন ক্লায়েন্টের তথ্য বা পরিস্থিতিতে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, ক্লায়েন্টের পরিস্থিতিতে কোন পরিবর্তনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হবে, তা কে নির্ধারণ করবে?

বাইরের বাজারে সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত মার্জিন লেনদেনের ক্ষেত্রে খসড়ার লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি প্রশমনের জন্য তদারকিমূলক নিয়ন্ত্রণ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ক্লায়েন্টকে লেনদেনের মূল্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্জিন দিতে হবে এবং তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ লিভারেজযুক্ত উপকরণে বা এমন কোম্পানিতে এই ধরনের লেনদেন সম্পাদন নিষিদ্ধ করা হবে, যাদের সঞ্চিত ক্ষতি তাদের মূলধনের অর্ধেকের বেশি।

এখানে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে, ৫০ শতাংশ মার্জিনের এই সীমা খুচরা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাবে, নাকি বিদেশি বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করবে?

সিএমএ জোর দিয়ে বলেছে, খসড়া বিধানগুলোর চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদনের উদ্দেশ্যে জনসাধারণের মতামতকে পূর্ণভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। ‘ড্রাফট প্রবিশনস রেগুলেটিং ডিলিং অ্যাক্টিভিটিজ ইন ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস আউটসাইড দ্য কিংডম’ নামের এই খসড়া বিধান ০১/১১/২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

মতামত ও পরামর্শ ইউনিফায়েড ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্ল্যাটফর্মের বিস্তারিত নাম বা ঠিকানা সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

যারা পুঁজিবাজারে সক্রিয়, তাদের কাছে এই পরামর্শকাল একটি বিরল সুযোগ। প্রশ্ন হলো, ৩০ দিনের এই সময়সীমা কি যথেষ্ট, নাকি আরও সময় দরকার?

খসড়ার একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো উপযুক্ততা মূল্যায়নের ধারাবাহিকতা। একবার ক্লায়েন্টের উপযুক্ততা নির্ধারিত হলে, প্রতিটি লেনদেনে তা আবার যাচাই করতে হবে না। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক বোঝা কমবে এবং লেনদেন দ্রুততর হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সরলীকরণ ক্লায়েন্ট সুরক্ষার সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে পারবে তো?

মার্জিন লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর। লেনদেনের মূল্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্জিন বাধ্যতামূলক করা মানে হলো, বিনিয়োগকারীকে নিজের পকেট থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ দিতে হবে। এর ফলে অতিরিক্ত ঋণভিত্তিক ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে উচ্চ লিভারেজযুক্ত উপকরণ এবং বড় সঞ্চিত ক্ষতিতে থাকা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই নিষেধাজ্ঞা কি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত রাখবে, নাকি বৈধ সুযোগও বন্ধ করে দেবে?

রাজ্যের বাইরের বাজারে লেনদেন মানে ভিন্ন বিধি, ভিন্ন মুদ্রা এবং ভিন্ন ঝুঁকি। তাই উপযুক্ততার শর্তাবলি সেখানে প্রযোজ্য করা একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ‘সমতুল্য বাজার’ বলতে ঠিক কোন বাজারগুলো বোঝানো হয়েছে, তা খসড়ায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা এসপিএ-র প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। প্রশ্ন হলো, সমতুল্যতার মানদণ্ড কে নির্ধারণ করবে?

সিএমএ বলেছে, চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদনের আগে জনমত পূর্ণভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মানে হলো, এখন জমা দেওয়া মতামত ভবিষ্যতের নিয়মকানুনে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশ্ন হলো, কতটা মতামত চূড়ান্ত পাঠে প্রতিফলিত হবে?

পরামর্শকাল ২৭/১০/২০২৬ তারিখে শেষ হবে এবং বিধান কার্যকর হবে ০১/১১/২০২৬ থেকে। এই দুই তারিখের মধ্যে ব্যবধান মাত্র কয়েক দিন। ফলে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রস্তুত করার জন্য সময় বেশ সংকুচিত। প্রশ্ন হলো, এত অল্প সময়ে সব মতামত যাচাই করা সম্ভব হবে কি?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে খসড়ার পূর্ণ পাঠ, ধারার সংখ্যা বা নির্দিষ্ট জরিমানার উল্লেখ নেই। এছাড়া মতামত জমা দেওয়ার প্ল্যাটফর্মের নামও সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এসব তথ্য খসড়ার মূল দলিলে পাওয়া যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এই খসড়া বিদেশের বাজারে সৌদি পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে একটি সুনির্দিষ্ট তদারকি কাঠামোর মধ্যে আনতে চায়। উপযুক্ততা, মার্জিন এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রস্তাবিত বিধান। বিনিয়োগকারী, প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক—সব পক্ষের জন্যই এটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সম্প্রসারণের মধ্যে সঠিক পথ খুঁজে পাবে কি সিএমএ?

পরামর্শকাল কত দিন এবং কখন শেষ হবে? সিএমএ জানিয়েছে, পরামর্শের সময়কাল ৩০ দিন, যা ২৭/১০/২০২৬ তারিখে শেষ হবে। খসড়া বিধান কার্যকর হওয়ার কথা ০১/১১/২০২৬ থেকে। এসপিএ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ রিয়াদ থেকে এই ঘোষণা প্রকাশ করে। চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদনের আগে জনসাধারণের মতামত পূর্ণভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সিএমএ জোর দিয়েছে।

খসড়ার মূল উদ্দেশ্য কী? খসড়ার লক্ষ্য হলো, পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজ্যের বাইরের আর্থিক বাজারে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লেনদেন করার সময় সেই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী তদারকি কাঠামো শক্তিশালী করা। উপযুক্ততার শর্তাবলি সমতুল্য বাজারে প্রযোজ্য হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে ডিলিং শুরুর আগেই তা পূরণ করতে হবে। প্রতিটি পরবর্তী লেনদেনে পুনর্মূল্যায়ন লাগবে না, যদি না ক্লায়েন্টের তথ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।

মার্জিন লেনদেনে কী নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব করা হয়েছে? বাইরের বাজারে সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত মার্জিন লেনদেনে ক্লায়েন্টকে লেনদেনের মূল্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্জিন দিতে হবে এবং তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। উচ্চ লিভারেজযুক্ত উপকরণে বা এমন কোম্পানিতে এই লেনদেন নিষিদ্ধ, যাদের সঞ্চিত ক্ষতি মূলধনের অর্ধেকের বেশি। উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি প্রশমন। এসপিএ ক্ষমতা বা জরিমানার উল্লেখ করেনি।

মতামত জমা দেওয়ার পদ্ধতি কী? সিএমএ জানিয়েছে, মতামত ও পরামর্শ ইউনিফায়েড ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্ল্যাটফর্মের বিস্তারিত নাম বা ঠিকানা সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আগ্রহী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পুঁজিবাজারের অংশগ্রহণকারীদের মতামত চাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদনের আগে এই মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে।

উপযুক্ততা পুনর্মূল্যায়নের ব্যতিক্রম কী? খসড়া অনুযায়ী, সমতুল্য বাজারে ডিলিং শুরুর আগে উপযুক্ততার শর্ত পূরণ করতে হবে, কিন্তু প্রতিটি পরবর্তী লেনদেনে আবার মূল্যায়ন লাগবে না। ব্যতিক্রম কেবল তখনই, যখন ক্লায়েন্টের তথ্য বা পরিস্থিতিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এসপিএ ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’-এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেয়নি।